২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী পাম অয়েল উৎপাদন বাড়তে পারে ১৫ লাখ টন

ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা ও রিঙ্গিতের অবমূল্যায়নে দাম বাড়ছে

বিশ্বব্যাপী ২০২৫-২৬ মৌসুমে পাম অয়েল উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ টন বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রি অ্যানালিস্ট দোরাব মিস্ত্রি।

বিশ্বব্যাপী ২০২৫-২৬ মৌসুমে পাম অয়েল উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ টন বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রি অ্যানালিস্ট দোরাব মিস্ত্রি। তবে এ সময় শীর্ষ দুই উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে পণ্যটির সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তার এ পূর্বাভাস, বিকল্প পণ্য সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মালয়েশিয়ায় রিঙ্গিতের অবমূল্যায়নের কারণে বাজারে এখন পাম অয়েলের দাম বাড়ছে। বিজনেস রেকর্ডার।

বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে জানুয়ারিতে সরবরাহের চুক্তিতে পাম অয়েলের দাম গতকাল টনে ১৩ রিঙ্গিত বা দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ৪ হাজার ১৫৮ রিঙ্গিত (প্রায় ১ হাজার ৩ ডলার)।

কুয়ালালামপুরভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, শীর্ষ দুই রফতানিকারক দেশ থেকে সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা, সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির এবং রিঙ্গিতের বিনিময় হারে পতন পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক শিল্প সম্মেলনে দোরাব মিস্ত্রি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া যদি বায়োডিজেলে পাম অয়েল মিশ্রণের হার বাড়ানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যায় এবং বাগান অধিগ্রহণ অব্যাহত রাখে তাহলে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মালয়েশিয়ার বিএমডি এক্সচেঞ্জে ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ৫ হাজার ৫০০ রিঙ্গিতে পৌঁছতে পারে। সেপ্টেম্বরেও তিনি একই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে ডিজেল উৎপাদনে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০ শতাংশ পাম অয়েল ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। উদ্যোগটি বি৫০ নীতি নামে পরিচিত। দেশটি ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বি৫০ কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী মাসেই এ জ্বালানির ব্যবহারিক পরীক্ষার কাজ শুরু হবে বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে।

মিস্ত্রি জানান, ইন্দোনেশিয়া যদি বি৫০ কার্যকর করে তাহলে পাম অয়েলের ঘাটতি তৈরি হবে এবং দাম দ্রুত বাড়বে।

গতকাল রিঙ্গিতের বিনিময় হার ডলারের তুলনায় দশমিক ৪১ শতাংশ কমেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশগুলোর জন্য তা তুলনামূলক সস্তা হয়ে উঠেছে। এতে চাহিদা বাড়ায় তার প্রভাব পড়েছে দামে।

চীনের ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (ডিসিই) সয়াবিন তেলের দাম গতকাল দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় পাম অয়েলের দাম বেড়েছে দশমিক ২৫ শতাংশ। এছাড়া এ সময় শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ২২ শতাংশ বেড়েছে।

ইন্টারটেক টেস্টিং সার্ভিসেস (আইটিএস) জানিয়েছে, মালয়েশিয়া থেকে নভেম্বরের প্রথমার্ধে (১-১৫ তারিখ) রফতানি আগের মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

আরও